ঢাকা , সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১১-০৫-২০২৬ ০৮:৩১:৩৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১১-০৫-২০২৬ ০৮:৩১:৩৪ অপরাহ্ন
​দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর ​ছবি: সংগৃহীত
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দেশের ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে অর্থায়নের বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। 

সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত এক প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর গুরুত্ব ও অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। এ সংক্রান্ত তিনটি প্রস্তাবনা আমাদের হাতে আছে, যার মধ্যে এক নম্বর প্রস্তাবনাটি (দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া) বাস্তবায়নের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার পর এখন আমরা অর্থায়নের উৎস নিয়ে কাজ করছি। পাশাপাশি অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রাক-প্রস্তুতির কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’

ঈদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নৌপথের বাড়তি সতর্কতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আরিচা ঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে গাড়ির ব্রেক ত্রুটির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এবার ফেরিতে গাড়ি ওঠার ক্ষেত্রে কঠোর শৃঙ্খলা আনা হচ্ছে। এখন থেকে ফেরিতে গাড়ি ওঠার আগে ব্যারিকেড দেওয়া হবে। আগের ট্রিপের গাড়ি পুরোপুরি খালি না হওয়া পর্যন্ত কোনো নতুন যানবাহন ফেরিতে প্রবেশ করতে পারবে না।’

সদরঘাটের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘স্পিডবোটের যাত্রীরা আর সরাসরি মাঝ নদী থেকে বা অন্য কোনো উপায়ে লঞ্চে উঠতে পারবেন না। তাদের জন্য নির্ধারিত পন্টুন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে ইতোমধ্যে নতুন সংযোগ সেতুও নির্মাণ করা হয়েছে।’

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছাড়বেন প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ। একই সঙ্গে প্রায় এক কোটি কোরবানির পশু পরিবহন করা হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে অত্যন্ত ‘চ্যালেঞ্জিং’ বলে অভিহিত করেন শেখ রবিউল ইসলাম। তবে সরকারের সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করলে যাত্রীদের ভোগান্তি ও সড়ক দুর্ঘটনা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এছাড়াও ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হলো-

১. ঈদুল-আযহার পূর্বের ৫ (পাঁচ) দিন এবং পরের ৫ (পাঁচ) দিন (২৩ মে হতে ২ জুন পর্যন্ত) দিনে-রাতে সার্বক্ষণিক বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হবে।

২.সদরঘাটে যাত্রী চাপ কমানো এবং স্বস্তিদায়ক ও সহজ নৌযাত্রা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা ঘাট থেকে এবং পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ঘাট হতে লঞ্চ সার্ভিস পরিচালনা করা হবে। কুড়িল বিশ্বরোড হতে শিমুলিয়া ঘাট পর্যন্ত বিআরটিসির শাটল বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হবে।

৩. ঈদুল-আযহার পূর্বের ৩ দিন এবং পরের ৩ দিন (২৫ হতে ৩১ মে পর্যন্ত) নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ব্যতীত সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখা হবে। তবে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ফেরি পারাপারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। 

৪. সদরঘাটে যাত্রীদের ব্যাগেজ/মালামাল বহনের জন্য নিয়মিত ট্রলি সেবা ও অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের জন্য হইলচেয়ার এর ব্যবস্থা করা হবে।

৫. কোরবানির পশু বহনকারী নৌযানকে ঘাটে ভিড়ানোর জন্য কোনো ঘাটের ইজারাদার/তার লোক কর্তৃক টানাটানি করা যাবে না। এ জন্য কোরবানির পশুবাহী সকল নৌযানকে কোন ঘাটে পশু আনলোড করা হবে তা নৌযানে দৃশ্যমানভাবে ব্যানার টাঙিয়ে লিখে রাখতে হবে।

৬. কোনো অবস্থাতেই কোনো লঞ্চ/নৌযান কর্তৃক সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা যাবে না। 

এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন  কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ